২৭, নভেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

কুমিল্লার দেবিদ্বারে পৌরসভার টোল আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজী

আপডেট: November 23, 2019

কুমিল্লার দেবিদ্বারে পৌরসভার টোল আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজী

*৫টাকার টোল জোরপুর্বক আদায় করা হয় ৩০ টাকা
*চাহিদা অনুসারে চাঁদা না পেলে করা হয় মারধর

আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পৌরসভার টোল আদায়ের নামে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজী। পুলিশ এবং প্রশাসনের সামনেই কয়েকটি সিন্ডিকেট পৌরসভার নিয়মনীতি ও নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত হারে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলার পান্নারপুল সিএনজি স্টেশনে সকল প্রকার যানবাহন থেকে টোলের নামে চাঁদা আদায় করছে এলাকার একটি সিন্ডিকেট। এতে অসহায় সিএনজি চালকসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চালকরা চরম বিপাকে রয়েছে। এদিকে পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত যানবাহনের বাইরেও পান্নারপুল সিএনজি স্টেশনে সকল প্রকার যানবাহন থেকে জোরপুর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভ‚ক্তভোাগীদের। চাহিদা অনুসারে চাঁদা না দিলে বখাটে সিন্ডিকেট সদস্য কর্তৃক যানবাহন চালকদের উপর নির্যাতন এবং মারধর করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে এলাকা সাধারন লোকজনের চরম ক্ষোভ। দ্বিতীয় শ্রেনীর এ পৌরসভায় নাগরিকদেরকে যথাযথ সেবা প্রদান করা না হলেও বিভিন্ন সেক্টর থেকে দেদারসে কর, রাজস্ব এবং চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। উপজেলার পান্নারপুল এলাকাটি পৌরসভার অন্তভর্‚ক্ত নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকলেও অনৈতিক ভাবে পৌর কর্তৃপক্ষ সেখানে সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা দিয়ে বছরে ৩৫ লাখ টাকারও বেশী রাজস্ব আদায় করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র সিএনজি এবং অটো রিক্সা থেকে প্রতি টিপে ৫ টাকা করে টোল আদায়ের জন্য নির্ধারন করে দিলেও ইজারাদার সিন্ডিকেট প্রতি সিএনজি থেকে ৩০টাকা, পিকআপ থেকে ৪০টাকা, বাস ট্রাক থেকে ৫০ টাকাসহ সকল প্রকার যানবাহন থেকে বেআইনী ভাবে চাঁদা আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে চাহিদা অনুসারে চাঁদা না দিলে এ স্ট্যান্ডে চালকদেরকে নির্যাতন অপমান এবং মারধর করা হয়।

পৌরসভার সিডিউল অনুসারে এ স্ট্যান্ডে শুধুমাত্র সিএনজি এবং অটোরিক্সা থেকে ৫টাকা করে টোল আদায়ের নির্দেশনা থাকলেও ইজারাদারগণ সকল প্রকার যানবাহন থেকেই চাঁদা আদায় করছে। এতে যানবাহন চালকসহ এলাকার সাধারণ লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিদিনই এসব বিষয় নিয়ে থানা পুলিশ এবং পৌরকর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের কাছে ভ‚ক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও এ নিয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপই গ্রহন করা হচ্ছে না। গত ৮ বছর যাবত ওই এলাকায় এসব চাঁদা আদায়ের কারণে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। আসছে ডিসেম্বর মাসে এ স্ট্যান্ডের পুনরায় ইজারা প্রদান করা হবে। সামনের ইজারায় অভিযুক্ত সিন্ডিকেটকে স্ট্যান্ড ইজারা না দিয়ে পৌরসভা তাদের নিজস্ব জনবল দ্বারা যেন টোল আদায় করা হয় এমন দাবি এলাকার লোকজনসহ চালকদের।

সিএনজি চালক মোতাহার হোসেন জানান, আমরা যাত্রী না নিলেও গ্যাস নিতে পান্নারপুল আসলেই ৩০ টাকা চাঁদা দিতে হয়, চাহিদা অনুসারে চাঁদা প্রদান করেও প্রায়ই মারধর শিকারসহ গালমন্দ শুনতে হয়। ট্রাক চালক ইলিয়াস হোসেন বলেন, পান্নারপুলের উপর দিয়ে গেলেই পঞ্চাশ টাকা চাঁদা, না দিলে মারধর, আমরা এ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের হাতে চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছি, পিকআপ চালক আলী হোসেন জানান, পান্নারপুল-দেবিদ্বারের ৪টি স্পটে পৌরসভার টোলের নামে চাঁদা দিয়েও প্রতিনিয়ত নাজেহাল হচ্ছি, এসব স্ট্যান্ডে নিয়োজিত চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যরা আমাদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করে।

পান্নাপুল সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারাদার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ওমানী বলেন, আমার নামে যে ইজারা সেটা আমি নিজেও জানি না, কিভাবে আমার নামে ইজারা হলো তা বোধ গম্য নয়, তারপরেও ধার্য্য করা টোলের বাইরে কেউ যদি যানবাহন থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো।  থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আনোয়ার, আমরা এখনো এ ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি, কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করে তাহলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও রাকিব হাসান বলেন, অতিরিক্ত হারে চাঁদা আদায় করা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।