২৫, নভেম্বর, ২০২০, বুধবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

কুমিল্লার মুরাদনগরে ১০ হাজার নিরিহ গ্রামবাসী গৃহবন্দী —-স্বপ্নের সড়ক নির্মাণে বিজিবি সদস্য গংদের বাঁধা

আপডেট: March 3, 2020

কুমিল্লার মুরাদনগরে ১০ হাজার নিরিহ গ্রামবাসী গৃহবন্দী    —-স্বপ্নের সড়ক নির্মাণে বিজিবি সদস্য গংদের বাঁধা

আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো:

কুমিল্লার মুরাদনগরে বিজিবি সদস্যের বাঁধায় দশ হাজার নিরিহ গ্রামবাসীর স্বপ্নের সড়ক নির্মাণ বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের কুড়াখাল গ্রামে প্রভাবশালী বিজিবি সদস্য মোঃ মোশারফ হোসেন, শাহ আলম মাস্টার, শাহ আলম সরকার, বাতেন সরকার গংদের বাঁধার মুখে চার গ্রামের দশ হাজার মানুষের স্বপ্নের সড়ক নির্মাণ কাজ এখন বন্ধ। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের অর্থায়নে কুড়াখাল বাজার থেকে কুরুন্ডি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার ফুট সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে এসে ওই প্রভাবশালীদের বাঁধার মুখে বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই এলাকার কুড়াখাল, কুরুন্ডি, রোয়াচালা এবং চুলুরিয়া গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষ গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে।

এনিয়ে ওই এলাকার তিন শতাধিক ভ‚ক্তভোগী স্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঙ্গরা বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভে যেকোন সময় রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
জানা যায়, জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের কুড়াখাল, কুরুন্ডী, রোয়াচালা, ও চুলুরিয়া গ্রামের ১০ হাজার বাসিন্দা সড়কের অভাবে বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুস্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হতো। অসহায় এ চার গ্রামবাসীর বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ওই এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের অধীনে একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রথমে ২০১৮ সালের দিকে একটি বরাদ্ধ প্রদান করেন।

এতে ওই বাসিন্দাদের পায়ে হেঁটে চলার ব্যবস্থা হলেও রিকশা-সিএনজি এবং অটোরিক্সাসহ যানবাহন নিয়ে চলাচলের কোন ব্যবস্থা ছিল না। ওই গ্রাম গুলোর কোন অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে আদিম যুগের পদ্ধতি ব্যবহার করতে হতো। গত কয়েক বছরের মধ্যে সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা দিতে না পারায় বেশ কয়েকজনের প্রাণ গেছে। নিরীহ ওই গ্রামবাসীরা গাড়ী এবং রিক্সা সিএনজি নিয়ে নিজ গ্রামে যাতায়াতের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিকট আকুতি জানায়। এতে দ্বিতীয় বারের মতো কুড়াখাল বাজার থেকে কুরুন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার ফুট রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এলাকার মুরুব্বি হাজী ফজলুল হক, সহিদ ভ‚ইয়া, আব্দুল মজিদ, আব্দুছ ছালাম, সেলিম ভ‚ইয়া, হুমায়ন ভ‚ইয়া, মিজান সরকার জানায়, গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এ কাজের শেষ পর্যায়ে এসে ঢাকার পিলখানা বিজিবি সদর দপ্তরে কর্মরত কুড়াখাল গ্রামের বাসিন্দা হাবিলদার মোঃ মোশারফ হোসেন এবং শাহ আলম গংরা বাঁধা প্রদান করে জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

এলাকাবাসী জানায়,ওই বিজিবি সদস্য নিরীহ গ্রামবাসীকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে এলাকায় নিয়মিত ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এতে ওই এলাকার মানুষের স্বপ্নের সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে। ওই বিজিবি সদস্য মোশাররফ হোসেন বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানার প্রশাসনিক শাখায় ডিউটি রানার হিসেবে কর্মরত আছেন। কুড়াখাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ওই সড়কে বাঁধা প্রদানের কারণে তাদের স্কুলে যাতায়াত খুব কষ্ট হচ্ছে এবং পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

তবে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখানোসহ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে বিজিবি সদস্য মো: মোশারফ হোসেন বলেন, আমি আমার নিজস্ব জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে দেবো না, একটু দুরে সরকারী হালট রয়েছে সেখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা যেতে পারে। শাহ আলম সরকার বলেন, এটি আমাদের ব্যক্তিগত জায়গা, আগে চলাচলের জন্য রাস্তা দিয়েছি, এখন আমরা আর রাস্তা দেবো না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাস বলেন, কুড়াখাল-কুরুন্ডী সড়ক নির্মান কাজে বাঁধা প্রদানের বিষয়ে আমি তিন শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে জনকল্যান মুলক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।