২৭, নভেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

আপনার যত রাগ সব সাংবাদিকের উপর: সুমন সরকার

আপডেট: April 18, 2020

আপনার যত রাগ সব সাংবাদিকের উপর: সুমন সরকার

আজ লিখতে বসেছি দেশের এক সংকটময় মূহর্তে। কভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্ব এক লকডাউন নামক নিরবতা পালন করছে। আর এই মহামারি ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে নানা বয়সের মানুষ চিন্তিত। মসজিদ সহ বিভিন্ন ধর্মের উপসনালয়গুলো আজ ফাঁকা। ইচ্ছে করলেই এখন আর স্বাধীনভাবে উপভোগ করতে পারছে না মানুষ প্রতিটি মূহর্ত। এইতো কয়েক মাস আগেই মানুষ ব্যস্ততার কারনে ইচ্ছে থাকলেও প্রিয়জনকে সময় দিতে পারেনি পেশা নামক দায়িত্বের কারনে। আবার হয়তো কেহ এই পেশাকে ফাঁকি দিয়ে ঘুরে এসেছে মনোরঞ্জকর কোন জগৎ থেকে। কই আজ সেই ব্যস্ততা আমাদের সবাই আজ চিন্তিত আবার কেহ নির্ঘুম এই মহামারিতে আক্রান্ত স্বজনকে নিয়ে।

আবার যারা স্বজন হারিয়েছেন তারা নিজেকে শক্ত করছেন আগামীতে এ পরিবার নিয়ে জয়ী হওয়ার পরিকল্পনায় আর না হয় প্রভুর ডাকে সারা দিয়ে মৃত্যু নামক সত্যটাকে গ্রহন করার। আসি এবার মূল কথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে স্বাধীন হওয়া এই রাষ্ট্রটি হচ্ছে আমার প্রিয় বাংলাদেশ । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বলছি আপনার দক্ষ নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে লড়াই করছি। হ্যা আমার বিশ্বাস একদিন আমরা উন্নয়নশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মমতাময়ী মা আমি দেশের ক্ষুদ্র একজন গনমাধ্যমকর্মী।

দেশ স্বাধীনতার পর থেকেই গনমাধ্যম রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ হিসেবে কাজ করে আসছে। আপনার বক্তব্যে প্রায়ই সময় শুনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার শুরু থেকে আজ অব্দি গনমাধ্যমের ভ‚মিকা অপরসীম। আজ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নানা পেশার মানুষজন গৃহে নিরাপদে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে আপনার নির্দেশনায় ডাক্তার, পুলিশ, সেনাবাহিনী সরকারী কর্মকর্তারা প্রানপন চেষ্টা করছেন। তাদের জন্য আপনি সুরক্ষা ভাতাসহ বীমার ব্যবস্থা করেছেন এবং তাদের কিছু হলে পরিবারের দায়িত্ব নেবে এ রাষ্ট্র। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই আমাদের দেশের গণমাধ্যম কর্মিরাও। প্রতিদিন সংবাদের পিছনে ছুটছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং বর্তমান পরিস্থিতি জাতিকে জানিয়ে দিচ্ছেন মূহর্তের মাধ্যমে সকল খবর।

মাননীয় প্রধামন্ত্রী আমরাও এ রাষ্ট্রের একজন নাগরিক আমরা পেশাগত দায়িত্বের কারনে জীবনের মায়া ত্যাগ করে ছুটে চলছি এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে। আদৌ কি ভেবেছেন এ লয়ড়াইয়ে অন্যান্য পেশাজীবীদের মত যে গনমাধ্যম কর্মিরা ছুটছেন তাদের জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের একটা পরিবার আছে। আমার মনে হচ্ছে আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা বারবার অবহেলার শিকার হচ্ছি। আজ আমাদের বলা হচ্ছে হলুদ সাংবাদিক, তেলবাজ, চাটুকার দালাল। হ্যা, সকল পেশায় কিছু মন্দ লোক থাকলেও থাকতে পারে তার জন্য তো তার করা মন্দকাজের দায় সবাই ভোগ করবে না। আমরা নিজেরাও চাই এসব মন্দ লোকের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হউক। আজ একজন সিনিয়র সাংবাদিকের কথা তুলে ধরব যা প্রকাশিত হয়েছিলো ২০১৭ সালের ১৩ই আগস্ট ‘নিউজ ঢাকা২৪ ডটকম নামে অনলাইন নিউজ পোর্টালে।

লেখাটি হুবহ তুলে ধরলাম, রাত ১১ টা। রাজধানীর কাওরান বাজারে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে কাঁদছেন এক সাংবাদিক। কান্নার কারন হলো আজ তার ৫ বছরের ছেলের জন্মদিন। ছেলে বাসায় বসে আছে বাবা তার জন্য কেক নিয়ে আসবে। কিন্তু গেল ৩ মাসে সে বাড়ি ভাড়াই দিতে পারছে না। বাসায় গেলেই বাড়িওয়ালার চাপ। এক দিকে বাসা ভাড়া আরেক দিকে ছেলের বায়না, কি করবে সে বুঝতে পারছে না। গেল ছয় মাসে অফিস থেকে কোন বেতন পাননি তিনি। ছেলের জন্মদিন অথচ পকেটে টাকা নেই ভাবতেই চোখে আসছে। এভাবেই চলছে সাংবাদিকদের কষ্টের দিন। ঘটনাটি কোন ফিল্ম বা নাটকের কাহিনী নয়। এটি একটি সংবাদমাধ্যমের বার্তা সম্পাদকের জীবনে ঘটে যাওয়া চিত্র।

এ ধরনের ঘটনা অনেক সাংবাদিকদের জীবনেই ঘটেছে। এবার আসি আমরা যারা মফস্বলে সাংবাদিকতা করি, সাংবাদিক শব্দ সহজ হলেও এই পেশায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে। আর এই পেশায় দেশ ও জাতির সম্পর্কে সকল বিষয়ে জানতে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়তে হয়। সরসারি নিয়মনীতি মানতে হয়। “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক দেশ ও জাতির বিবেক। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির কল্যাণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতা সহজ নয়, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশা। তবে এটা সবার জন্য না। দেশে কয়েক হাজার সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে টেলিভিশন, জাতীয় পত্রিকা, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র রয়েছে, সেখানে লক্ষাধিক সংবাদকর্মী কাজ করেন।

শহরের চেয়ে গ্রামের সাংবাদিকদের অবস্থা আরো নগন্য। গ্রামে যারা উপজেলা পর্যায়ে কাজ করে তারা বেতন ভাতা ঠিক মতো পান না। সরকারি বেসরকারি বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে সংসার। কাছের মানুষসহ বন্ধুবান্ধব অনেকেই প্রশ্ন করেন এতো কষ্টের পরেও কেন সাংবাদিক হিসাবে আছি ? আসলে ভাই সখের বসে এসেছিলাম এ পেশায় কিন্ত শখ টা এক ধরনের নেশায় পরিনত হয়েছে যা থেকে এখন সাংবাদিকতা আমার পেশা। আমরা ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর না বর্তমানকে ভালোবেসে আছি এ পেশায়। লেখালিখি না করলে এখন আর ভালো লাগে না। তাই আমার ,মনে হয় এ পেশার সাথে যারা সম্পৃক্ত তারা কেহ চাইলেই এ পেশাটাকে ছাড়তে পারবে না।

লেখক,
মো. সুমন সরকার
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি- দৈনিক যুগান্তর।
সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক- মুরাদনগর প্রেসক্লাব।
সহ-সাংগাঠনিক সম্পাদক- দেবিদ্বার প্রেসক্লাব।
সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক- দক্ষিন ভিংলাবাড়ী সোনার বাংলা মাদকবিরোধী যুব সংগঠন।
সহ-সভাপতি- ব্লাড ফর দেবিদ্বার।